Shaktipeeth Tarapeeth in Bengali - Esso Pori- Read Now

Latest

শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১

Shaktipeeth Tarapeeth in Bengali

         


Shaktipeeth Tarapeeth in Bengali


Shaktipeeth Tarapeeth in Bengali


 শক্তিপীঠ তারাপীঠ

   (Shaktipeeth Tarapeeth)

    গ্রাম- চণ্ডীপূর, সি ডি ব্লক- রামপুরহাট-2, জেলা- বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।         


          মহাপীঠ তারাপীঠ


  তারাপীঠ, 51 শক্তিপীঠের মধ্যে তান্ত্রিক সাধনক্ষেত্র হিসাবে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হিসাবে পরিগণিত। সেজন্য এই শক্তিপীঠকে মহাপীঠ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এই শক্তিপীঠ সংলগ্ন দ্বারকা নদীর তীরে মহাশ্মশান শাক্ত মতে তন্ত্র সাধনার এক প্রকৃষ্ট ক্ষেত্র হিসাবে বিবেচিত হয়ে থাকে।

  সনাতন হিন্দু ধর্মমতে মাতৃশক্তিকে এমন এক উচ্চস্থানে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে যা প্রমাণ করে মাতৃশক্তিই হল সৃষ্টির মূল আধার।

  আমরা, হিন্দু শাস্ত্রে মাতৃশক্তিকে বিভিন্ন রূপে পেয়ে থাকি। তার দশমহাবিদ্যারূপে ব্যাখ্যা হল,

   "কালী, তারা,মহাবিদ্যা,

       ষোড়শী, ভুবনেশ্বরী।"

  মাতৃশক্তিরূপে মা তারা হলেন দ্বিতীয়া মহাবিদ্যা। তাই, তারাপীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবী তারা শাক্ত তান্ত্রিক সাধক ও পূণ্যার্থীদের কাছে খুবই মহিমান্বিতা।


         পৌরাণিক কিম্বদন্তী

     শক্তিপীঠ সৃষ্টির আদিকথা


  দক্ষকন্যা দেবী সতী পিতার আয়োজিত যজ্ঞে বিনা আমন্ত্রনে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেখানে পিতার মুখে পতি শিবের নিন্দা শুনে, প্রজ্জ্বলিত যজ্ঞাগ্নিতে আত্মাহুতি দেন। সেই শোকে ক্রোধান্বিত মহাদেব যজ্ঞস্থলে উপস্থিত হয়ে দক্ষকে হত্যা করেন ও সতীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে তাণ্ডবনৃত্য শুরু করেন। পরে, সেই দেহ নিয়ে ভুমণ্ডলে বিচরন করার সময় প্রভু বিষ্ণু তাঁর 'সুদর্শন চক্র' দিয়ে সতীদেবীর দেহ 51টি খণ্ড করেন। 

  সেই খণ্ডগুলি যেখানে পতিত হয়েছিল সেই স্থানগুলি দেবীশক্তির আধার রূপে 51টি শক্তিপীঠ হিসাবে গড়ে উঠেছে। প্রতিটি শক্তিপীঠে মাতৃশক্তির আধারে এক পরাশক্তি বিরাজমানা বলে বিশ্বাস করা হয়।       


          শক্তিপীঠ তারাপীঠ

  তারাপীঠ শক্তিপীঠকে বলা হয় সিদ্ধপীঠ। এখানে সাধকগণ মহাশ্মশানে তন্ত্র সাধনার দ্বারা মোক্ষপ্রাপ্তি কামনা করে। পূণ্যার্থীগণ শান্তি ও প্রার্থিত ফললাভ প্রার্থনা করে। 


         মহাসাধক বামাখ্যাপা

  মহাসাধক বামাখ্যাপা ছিলেন এক তন্ত্র সাধক। বামাচারী তন্ত্র সাধনায় তিনি সিদ্ধিলাভ করেন। তাঁর পূর্বনাম ছিল বামাচরণ চট্টোপাধ্যায় ও নিবাস ছিল আটলা গ্রামে। জন্মঃ 18ই ফেব্রুয়ারী 1838 ও মৃত্যু 73 বছর বয়সে 18ই জুলাই1911 তারিখে।

  অল্প বয়সে তিনি গৃহত্যাগ করে পার্শ্ববর্তী দক্ষিনগ্রামে সাধক মোক্ষদানন্দের আশ্রমে চলে যান ও দীক্ষা নেন।     

  পরে, অপর গুরু সাধক, বাবা কৈলাশপতির অনুগ্রহে তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন ও তারাপীঠ মহাশ্মশানে সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেন। তিনি তারাপীঠ মন্দিরে মাতৃপূজা ও সমাগত পূণ্যার্থীদের বিভিন্নভাবে সমস্যা সমাধানে সাহায্য করতেন।


            নীলকণ্ঠ মহাদেব

  পুরাকালে, দেবতা ও অসুরদের দ্বারা সমুদ্র মন্থনের সময় বিভিন্ন দ্রব্যাদি সহ অমৃতের সাথে এক ভাণ্ড গরল (বিষ) উঠে আসে। সেই গরল দেবতা ও অসুর কেহই পান করতে সম্মত হন না। পরে, সৃষ্টি ধ্বংসের সম্মুখীন হলে মহাদেব সেই বিষ পান করেন। তাঁর কণ্ঠদেশে সেই বিষ আটকে যায় এবং প্রান ওষ্ঠাগত দেখে মা তারা তাঁকে নিজ স্তন্য পীযূষথারা পান করিয়ে সুস্থ করেন। কিন্তু তাঁর কণ্ঠদেশ নীলবর্ণ ধারন করে । তাই তাঁকে বলা হয় "নীলকণ্ঠ"।


         মহামুনি বশিষ্ঠদেব

  পুরাকালে, মহা তপস্বী বশিষ্ঠদেব মা তারার সাধনকল্পে মনস্থ করেন। কিন্তু তিনি মানসনেত্রে পূজনীয়া মাতৃমূর্তি দর্শন করতে না পেরে, সাধনা শুরু করেন। সেই সময় তিনি দৈবাদেশ পান এবং তাঁকে ভগবান বুদ্ধদেবের শরণ নিতে বলা হয়। বুদ্ধদেব মা তারার মাতৃরূপ দর্শন করেছিলেন। তিনি বশিষ্ঠদেবকে তারাপীঠে গিয়ে মাতারার দর্শিত-রূপে মূর্তি ও মন্দির প্রতিষ্ঠা করে সাধনা করতে আদেশ দান করেন। 

  সেই মূর্তি হল, মা তারা তাঁর বাম ক্রোড়ে মহাদেবকে ধারণ করে নিজ স্তন থেকে পীযূষধারা পান করাচ্ছেন। এই রূপে সাধনা করে মহামুনি বশিষ্ঠ সিদ্ধিলাভ করেন


            তারাপীঠ মন্দির 

  তারাপীঠ মন্দিরটি লাল ইঁটের মোটা দেওয়াল বিশিষ্ট ও এক মনোরম গ্রাম্য পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত।    

  এখানে গর্ভগৃহে দুটি মাতৃমূর্তি প্রতিষ্ঠিত । একটিতে মা মহাদেবকে স্তন্যপান করাচ্ছেন, যার দ্বারা মা তাঁর নিজ সৃষ্টিকে পালন করছেন ও অপর রূপে অসুর অর্থাৎ অশুভ শক্তির বিনাশ সাধন করে সৃষ্টিকে রক্ষা করছেন। দ্বিতীয় রূপটি হল মহাকালী রূপ, তাঁর মস্তকে রৌপ্য কিরীট, ললাটে রক্ত সিন্দুর, কণ্ঠে ছিন্ন অসুর মুণ্ডের মালা, আলুলায়িত দীর্ঘ কেশরাশি, লোলজিহ্বা, নিম্ন মুখমণ্ডল রক্তরঞ্জিত, নিম্ন বামহস্তে অসুরের ছিন্নমুণ্ড, ঊর্দ্ধবাম হস্তে রক্তমাখা কৃপান এবং ঊর্দ্ধ দক্ষিন হস্তে বরাভয়মুদ্রা ও নিম্ন দক্ষিন হস্তে বরদা মুদ্রা সহযোগে পদতলে শায়িত শিব বক্ষে দক্ষিন পদ স্থাপন করে মা দণ্ডায়মানা।

  কথিত আছে, এখানে দেবী সতীর তৃতীয় নয়ন পতিত হয়েছিল। তাই মা তারা রূপে বিরাজিতা। মায়ের রক্ষক ও অভিভাবক রূপে চন্দ্রচূড় ভৈরব এখানে অবস্থান করেন ও নিত্য পূজিত হন।


  তারাপীঠ মাতৃমন্দির প্রত্যহ সকাল 6টায় খোলা হয় ও রাত্রি 9টায় বন্ধ হয়। কোন প্রবেশ মূল্য নাই।


  দুর্গা পূজা, কালীপূজা,1লা বৈশাখ, প্রভৃতি উৎসব যথাযথ মর্যাদা ও সাড়ম্বরে প্রতিপালিত হয়ে থাকে।

  

  কিভাবে যাবেন :-

  বিমান পথ :- নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, কলকাতা। সেখান থেকে রেল অথবা সড়কপথে আসা যায়।

  রেলপথ :-

  শিয়ালদা রেল স্টেশন ও হাওড়া রেল স্টেশন। উভয় স্টেশন থেকেই তারাপীঠের সন্নিকটস্থ রামপুরহাট স্টেশন ও সেখান থেকে বিভিন্ন যানবাহনে এখানে আসা যায়।

  সড়কপথ :-

  পশ্চিবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ও অন্যান্য শহর থেকে বাস, লাক্সারী বাস, এ সি সুবিধাযুক্ত বাস ও বিবিধ যানবাহন ইত্যাদির ব্যবস্থা রয়েছে।


   দর্শনীয় স্থান সমূহ :-

   মা তারার মন্দির সংলগ্ন মহাশ্মশান, বামাখ্যাপা মন্দির, মল্লারপুর শিব মন্দির, বক্রেশ্বর মন্দির, কঙকালেশ্বরী মন্দির, নলাটেশ্বরী মন্দির প্রভৃতি।

  সবশেষে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতন দর্শন অবশ্য কর্তব্য। 


  সুধী পাঠকবৃন্দ ! লেখাটি পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, আপনাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে পেরেছি। আরও কিছু জানতে হলে যোগাযোগ করুন। উত্তর দিতে সচেষ্ট থাকব।